
Guida
এর দোতু নো মরি পার্ক (Erutsu no Mori Park) ফুকুওকা প্রিফেকচারের কিটায়াকুশামা শহরের কোকুরা কিতারু জেলায় অবস্থিত একটি সিটি জুপলজিক্যাল পার্ক। এই পার্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি এবং গাছপালা ব্যবহার করে তৈরি করা প্রদর্শনী স্টাইল, যা প্রাণীদের তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে থাকার অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির ৫৫০টি প্রাণীর প্রদর্শনী রয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীর সংগ্রহ রয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে, যেখানে প্রাণীদের জীবনধারা এবং প্রকৃতির সাথে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে জানা সম্ভব।
এই পার্কের ইতিহাস ১৯৩২ সালে কিউশু ইলেকট্রিক রেলওয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠিত 'এরুতসু ইউয়েন' (Erutsu Yuen) থেকে শুরু হয়। ১৯৩৬ সালে এটি একটি জুপলজিক্যাল পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে এটি একবার বন্ধ হয়ে গেলেও ১৯৪৬ সালে পুনরায় চালু করা হয়। ২০০০ সালে এর ব্যবস্থাপনা কিটায়াকুশামা সিটির হাতে আসে এবং বর্তমানে এটি 'এর দোতসু নো মরি পার্ক' নামে পরিচিত। পার্কের কার্যক্রম এবং প্রাণীদের খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য 'অ্যানিম্যাল সাপোর্টার' বা সদস্যপদ ভিত্তিক স্থানীয় জনর Unterstützung বা অনুদান ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়।

পার্কটি বেশ কয়েকটি বিশেষ জোনে বিভক্ত। 'লোকাল অ্যানিম্যাল জোন'-এ আপনি স্থানীয় জলজ পাখি যেমন অ্যামাসাগি এবং কালো আইবিস এবং বনজ প্রাণী যেমন পেঁচা ও র্যাকুন দেখতে পাবেন। 'ওয়ার্ল্ড অ্যানিম্যাল জোন' আরও সুবিন্যস্ত; যেমন 'মাদাগাসCar জোন'-এ লেমুর এবং 'গ্রাসল্যান্ড জোন'-এ জিরাফ, সিংহ ও মীরক্যাট দেখা যায়। এছাড়া 'ফরেস্ট ফ্লোর জোন'-এ শিম্পাঞ্জি এবং আমুর টাইগারের মতো প্রাণীদের প্রদর্শনী রয়েছে। আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ হলো 'অ্যানিম্যাল ইন্টারঅ্যাকশন জোন', যেখানে আপনি রেড পান্ডা, র্যাকুন, প্রেইরি ডগ, গাধা, খরগোশ এবং তোতাপাখির সাথে খুব কাছ থেকে সময় কাটাতে পারেন।
ঋতুভেদে এখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে মাস এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাণীদের কার্যকলাপ বেশ প্রাণবন্ত থাকে। জুন মাসে অনেক সময় 'প্যারোট ডে' বা বিশেষ ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। প্রাণীদের সক্রিয় সময় এবং আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য সকালের শীতল সময় বা রোদ কম থাকা সময়গুলোতে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে মনে রাখবেন, সাধারণত সোমবার বা মঙ্গলবার পার্কটি বন্ধ থাকতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে সময় যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
এখানে শুধু প্রাণীদের দেখা নয়, বরং পরিবেশ ও প্রকৃতি সম্পর্কে শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য পার্কের ভেতরে বেশ কিছু রাইড বা অ্যাট্রাকশন রয়েছে, যেমন: ফেরিস হুইল, মিনি মোনোরেল, চিলড্রেন ট্রেন, মেরি-গো-রাউন্ড, সাইকেল মোনোরেল এবং স্কাই ফ্লায়ার। এগুলো শিশুদের জন্য একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
পার্কের আশেপাশে চুরো পার্ক এবং কিটায়াকুশামা সিটি জেনারেল জিমনেসিয়াম সহ বিভিন্ন পাবলিক ফ্যাসিলিটি রয়েছে। এছাড়া কিটায়াকুশামার অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র যেমন 'কাইকিওকান অ্যাকোয়ারিয়াম' এবং 'ইনো কাচি নো তাবি মিউজিয়াম' দেখার সুযোগও পর্যটকদের থাকে।
পার্কের ভূপ্রকৃতি প্রাকৃতিক হওয়ায় এবং হাঁটাচলার পথ কিছুটা উঁচু-নিচু হতে পারে, তাই আরামদায়ক জুতো পরে আসা বাঞ্ছনীয়। পার্কের ভেতরে কেনাকাটা বা অন্যান্য সেবার জন্য পেমেন্ট পদ্ধতি এবং বাফার ফেসিলিটি সম্পর্কে স্থানীয় সাইট থেকে আপডেট তথ্য দেখে নেওয়া ভালো। প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ বজায় রাখতে স্থানীয় নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।